নুইসেন্স

আমার বন্ধু সিদ্ধার্থর ছোটবেলা কেটেছে আসামের ডিগবয় শহরে। সে যখন খুব ছোট, ক্লাস ফোর কিংবা ফাইভে পড়ে, তার স্কুলের ইংরেজীর মাস্টারমশায়  ঠিক করলেন যে ছেলেদের ইংরেজীটা  ভালভাবে শিখতে গেলে তাদের ইংরেজীতে কথা বলাটা খুব দরকার।

তিনি নিয়ম করে দিলেন যে এবার থেকে সবাইকে ইংরেজীতে কথা বলতে হবে, অসমীয়া, বাংলা কিংবা হিন্দী তে কথা বলা চলবেনা।

সিদ্ধার্থ আর তার বন্ধুদের তো প্রথম প্রথম খুব অসুবিধে হতে লাগলো। ইংরেজীতে কথা বলার অভ্যেস না থাকলে যা হয় আর কি,  সোজা সোজা কথাও মনে মনে বাংলা থেকে ইংরেজীতে translate করে বলতে হচ্ছে, এবং তাও প্রচুর ভুলভাল হচ্ছে।

মাস্টারমশায় বললেন চোখ কান খোলা রাখো, চারিপাশে ইংরেজী তে কেউ কিছু বললে বোঝার চেষ্টা করো, কোথাও ইংরেজীতে কিছু লেখা থাকলে সেটা পড়ে তার মানে জেনে নাও।

ডিগবয় খুব সুন্দর শহর, সেখানে  অনেক বাগান, পরিস্কার রাস্তাঘাট,  নানা জায়গায় ইংরেজীতে লেখা  “Keep your city beautiful”, “ Do not walk on grass”, “Do not touch the flowers”, “Do not commit nuisance”,  ইত্যাদি।

সিদ্ধার্থর সহপাঠী বন্ধু সুকান্ত একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলো  “Do not commit nuisance মানে কি রে?”

সিদ্ধার্থও কথাটার মানে ঠিক জানেনা।

বড়দের কাউকে জিজ্ঞেস করে ওরা জানলো যে কথাটার মানে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া। অর্থাৎ হিসি করা।

এর কিছুদিন পরে ওদের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে, সিদ্ধার্থরা সবাই একমনে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে যাচ্ছে, সারা হলঘর শান্ত, নীরব, নিশ্চুপ, কোন আওয়াজ নেই।

এমন সময় সুকান্ত হঠাৎ হাত তুললো। সে কিছু বলবে।

Invigilator ছিলেন ওদের ইংরেজীর মাস্টারমশায় । তিনি সুকান্ত কে ইংরেজীতে বললেন, “What do you want?”

সুকান্ত কে ইংরেজীতেই উত্তর দিতে হবে।

সে বললো, “I want to commit nuisance sir!”