পার্থর বাড়ীতে নেমন্তন্ন থাকলে সেখানে আমাদের দু’টো প্রধান আকর্ষন।
এক হলো সিঙ্গল মল্ট্। আর দুই মণিকার দুর্দ্দান্ত রান্না আর elaborate menu…তার সাথে অবশ্যই ওদের দুজনের আন্তরিক আতিথেয়তা।
তো একবার এইরকম একটা নেমন্তন্নে গিয়ে হুইস্কির গ্লাস নিয়ে আমরা ক’জন আরাম করে পার্থদের বাড়ীর সুদৃশ্য ড্রয়িং রুমে নরম সোফায় গা ডুবিয়ে বসে আছি।
KOC র চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পার্থ সম্প্রতি একটি মহামূল্য Apple I Phone উপহার পাবার গল্প করছে। সে এক অদ্ভুত ফোন, কত কি যে তার ফিচার, পার্থ আমাদের সেই সব বুঝিয়ে বলছে, কি দারুণ ক্যামেরা, কত মেগা পিক্সেল, কতগুলো সিমকার্ড। ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং সেই ফোনের ভেতরে রাখা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তার উপহার পাবার ছবিও সে আমাদের দেখাচ্ছে, যাতে আমরা তার কথা বিশ্বাস করি।
পার্থর মুখ গর্ব্বে জ্বলজ্বল করছে, তার সাফল্যে আমরা বন্ধুরাও খুব খুসী। চেয়ারম্যানের হাত থেকে উপহার পাওয়া খুব কম লোকের ভাগ্যেই থাকে। বন্ধুর ভাগ্যে আর সাফল্যে আমরাও গর্বিত।
কিন্তু এর মধ্যে পার্থর একটা নতুন জ্যাকেট হারিয়ে গেছে বলে তার মন খুব খারাপ। কি করে হারালো, আমরা জানতে চাইলাম।
আর বোলোনা, পার্থ বললো, মণিকা আর আমি নিউ ইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্কে গিয়ে একটা বেঞ্চিতে বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি জ্যাকেটটা নেই। কোথায় গেল? চারিদিকে আশে পাশে অনেক খুঁজলাম। কোথাও নেই।
তুতু বললো নতুন জ্যাকেট?
পার্থ বলল আরে ভাই, of course – brand new! হুম্!
সব কথার প্রথমে “আরে ভাই”, আর শেষে “হুম্” বলা পার্থর একটা অভ্যেস।
হুম্ কথাটা মাঝে মাঝে সন্মতিসূচকও হতে পারে আবার চিন্তাসূচক ও হতে পারে।
আমি বললাম লেদার জ্যাকেট ছিল নাকি?
পার্থ বললো আরে ভাই, of course – shining leather! হুম্!
আমি বললাম সত্যি শীতকালে জ্যাকেট হারালে বড় মুস্কিল হয়। গায়ে অন্য গরম জামা ছিল।?
পার্থ বললো আরে ভাই, of course, আমার তো গায়ে ভারী কোট থাকে সব সময়। হুম্!
আমরা সবাই পার্থর জ্যাকেট হারানোর শোকে বেশ মুহ্যমান হয়ে পার্থের গল্প শুনছি আর ভাবছি এই বুঝি পার্থ জ্যাকেটটা খুঁজে পাবে। কিন্তু না, খুঁজে আর পাওয়া গেলনা।
মিনি বললো সত্যি নিউ ইয়র্ক শহরটা চোরে ভর্ত্তি। আর সেন্ট্রাল পার্কে তো চারিদিকে চোর গিজগিজ করছে।
প্রসূণ আমাদের মধ্যে বেশ প্র্যাকটিকাল, আর ডাক্তার বলে চোরদের মনস্তত্ত্ব সম্বন্ধে তার বেশ ভাল ধারণা। সে বললো যে চুরি করেছে তার সাইজ যদি তোমার মত হয়, মানে তোমার জ্যাকেট যদি তার গায়ে ফিট করে যায় , তাহলে সে তো জ্যাকেটটা পরে নিয়ে বেরিয়ে যাবে, কেউ জানবেই না যে ওটা তার নয়।
তুতু বলল হয়তো বাড়ীতে ফেলে রেখে এসেছিলেন, ফিরে গিয়ে পেলেন?
পার্ত্থ বললো আরে ভাই, না না জ্যাকেট টা তো নতুন ফোনের বাক্সের মধ্যেই ছিল, তখনো খুলে ফোনে পরানো হয়নি। কোথায় যে ফেললাম! হুম্!
ও হরি, ফোনের জ্যাকেট!
আমরা সকলেই সেদিন বেশ আশাহত হয়েছিলাম, কেননা সবাই ভাবছিলাম ওটা একটা গায়ে পরবার জ্যাকেট।
পার্থের গল্প বলার ভঙ্গীটাই ওইরকম। শ্রোতাদের কাছ থেকে সম্ভ্রম আদায় করে নেবার ক্ষমতা আছে ওর।
আমরা কেউই বুঝতে পারিনি যে ফোনের জ্যাকেটের কথা হচ্ছে।