Shuzaa zaike ডাইন দিক মে

বাঙালীদের হিন্দী তে কথা বলা নিয়ে অনেক মজার গল্প আছে। 

১৯৭০ এর দশকে হেমন্ত বসু নামে  একজন  ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতাকে  মাঝে মাঝে  বড়বাজারের দিকে অবাঙালী শ্রোতাদের  তাঁর বক্তৃতায় অবলীলাক্রমে  কেন্দ্রের  বিরুদ্ধে  হিন্দীতে “কেন্দ্র  নিত্যনৈমিত্তিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করকে প্রাণ ওষ্ঠাগত কর্‌ দেতা হ্যায়” বলে বিষোদ্গার করতেন।  

শুনেছিলাম একবার পঙ্কজ মল্লিক নিজের সুর দেওয়া রবীন্দ্রনাথের একটি গান রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে তাঁকে শুনিয়েছিলেন। সাথে ছিলেন কুন্দনলাল সায়গল। গান শেষ হবার পরে দুজনে যখন ফিরছেন তখন কুন্দনলাল পঙ্কজদা কে বললেন “কেয়া বড়িয়া গানা সুনায়া আপ নে উনকো মল্লিকসাহাব,  দিল ভর গিয়া!”

এদিকে পঙ্কজবাবুর তো রবীন্দ্রনাথের সামনে গাইতে হবে ভেবে সকাল থেকে বুক দুরদুর করছে ভয়ে। গান গাওয়া হয়ে গেছে, তাই এখন তিনি কিছুটা নিশ্চিন্ত।

তিনি বন্ধু কুন্দনলাল কে তাঁর ভাঙা ভাঙা হিন্দী তে নাকি বলেছিলেন, “কেয়া বোলতে হো? সুন্দর গায়া? হামারা তো প্রথম সেহী হৃদকম্প হো রহা থা, গাইতে যে পারা হ্যায়, ইয়ে হী যথেষ্ট হ্যায়!”

কুয়েতে বহুদিন আগে এক ভদ্রলোক ছিলেন, তিনি কুয়েত অয়েল কোম্পানীতে উচ্চপদে আসীন ছিলেন, তাঁর হিন্দীও ছিল অসাধারণ! শোনা যায় তিনি নাকি একবার তাঁর একজন colleague কে বলেছিলেন, “আজ মিটিং মে ইতনা হট্টগোল হুয়া কি হাম তো বেগতিক দেখকে সুযোগ বুঝকে উঁহা সে চম্পট দিয়া!”

কুয়েতে অনেক বাংলাদেশী আছে, তাদের সাথে দেখা হলে আমরা বাংলায় কথা বললেও তারা আমাদের ভারতীয় ভেবে হিন্দীতে উত্তর দেবেই।

এই নিয়ে দুটো গল্প।

আশির দশকে সিদ্ধার্থ আর সুমিতা একবার ফাহাহীলে একটা ভিডিওর দোকানে গেছে, সেখানে একটি বাংলাদেশী ছেলে তাদের নানারকম ভিডিও দেখাচ্ছে। সে ধরেই নিয়েছে যে ভাবী শাড়ী পরে আছেন, তিনি হলেন বাঙালী, আর দাদা কোট প্যান্ট অতএব তিনি নিশ্চয় ভারতীয়। কোন ভিডিওতে কি সিনেমা তা বোঝাতে সে প্রথমে সুমিতাকে বাংলায় বোঝায় আর পরে দাদা বুঝতে পারেননি এই ভেবে সিদ্ধার্থকে হিন্দীতে অনুবাদ করে জানায়।    

হামলোগ নামে একটা ভিডিও এসেছে বাজারে, ছেলেটি সুমিতাকে বললো “এই ভিডিও টা লয়ে zaan ভাবী, ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা লয়া সুন্দর বানাইসে।”

তারপর সিদ্ধার্থ  হয়তো তার কথা বুঝতে পারেনি এই ভেবে তার দিকে তাকিয়ে হিন্দীতে, “ছাত্র ছাত্রী লোগোকা  সমস্যা লয়া বহুত সুন্দর বানায়া হ্যায়!”

এক বন্ধুর ছেলের পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ছিল বলে শ্যামল আর নুপূর তাকে  একদিন Al Razi হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিল, সেখানে অনেক বাংলাদেশী ward boy,  তাদের একজন কে নুপূর জিজ্ঞেস করে, “Children’s ward টা কোথায় ভাই?”  

তার উত্তরে সেই ছেলেটি যে অবিস্মরণীয় Classic উত্তর দিয়েছিল তা হলোঃ

Shuza zaike ডাইন দিক মে!