All posts by indrajitbhowmick

তাপস পাল

তোমরা যারা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পড়েছো, তারা নিশ্চয় অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শুনে থাকবে। অসিতবাবু হাওড়ার রামরাজাতলায় থাকতেন, সুভদ্রাদের বাড়ি থেকে খুব দূরে নয়। অসিতবাবুদের সাথে সুভদ্রাদের পারিবারিক পরিচয় ছিল। ওনার স্ত্রী বিনতা হাওড়া গার্লসে শিক্ষিকা ছিলেন।

বিনতাদির কাছে সুভদ্রা শুনেছে যে অসিতবাবু নাকি হিন্দী সিনেমার মারামারির দৃশ্য দেখতে খুব ভালবাসতেন। শনি আর রবিবারে দূরদর্শনে হিন্দী সিনেমা দেখানো হতো, ওনাদের বাড়ীর চাকরের নাকি কাজ ছিল শনি আর রবিবার টিভির সামনে বসে থাকা। আর সিনেমায় কোন মারামারির দৃশ্য হলেই “বাবু শিগগিরি আসুন” বলে ওনাকে ডাকা। অসিত বাবুও নাকি চাকরের ডাক শুনে লেখা টেখা সব ছেড়ে দৌড়ে টিভির সামনে চলে আসতেন।

সম্প্রতি এ বি পি আনন্দ চ্যানেলে তাপস পালের  জ্বালাময়ী বক্তৃতা বার বার দেখাচ্ছিল, তা দেখতে দেখতে আমার অসিতবাবুর কথা মনে পড়ছিল। একথা অস্বীকার করবোনা যে বার বার টেলিভিশনে ওই দৃশ্য দেখতে আমার মন্দ লাগতোনা, বেশ গা গরম হয়ে উঠতো। মনে হতো কোন সিনেমাই দেখছি, যেখানে নায়ক তার শত্রুদের বেশ এক হাত নিচ্ছে।

আর তাপস পাল তো অভিনেতাই, তাঁকে ঠিক রাজনৈতিক নেতা বলে কি মনে হয়? সুতরাং ওই দৃশ্য দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে তিনি অন্যের তৈরী করা স্ক্রিপ্ট বলে যাচ্ছেন এবং তাঁর ওই আগুণে বক্তৃতা আদতে অভিনয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

দাদার কীর্ত্তি সিনেমার সেই বোকা ভালোমানুষ ছেলেটার কি হলো? মা সরস্বতী কে সে যে সারা রাত ঠান্ডা জলে গা ডুবিয়ে বলেছিল “মা, আমায় বোধ দাও মা, আমায় বুদ্ধি দাও”, সেই প্রার্থনায় কোন কাজ হয়নি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে অফিস থেকে ফিরে রোজ এ বি পি আনন্দ খুলে ওই এক দৃশ্য দেখছি বলে সুভদ্রার “সারেগামা” কিংবা “তুমি যে আমার” দেখা হচ্ছেনা, সে একদিন বন্ধুদের কাছে আমার নামে complain  করে বলছিল “দ্যাখো না, এই এক হয়েছে তাপস পাল। এর জ্বালায় আমার কোন সিরিয়াল দেখা হচ্ছেনা।”সেদিন প্রসূণের বাড়িতে বন্ধুরা সবাই মিলে বসে World Cup এর  France Germany ম্যাচ টা দেখছি, হাফ টাইমে আমি প্রসূণ কে বললাম “একটু তাপস পাল টা চালিয়ে দাও তো, দেখি কি হচ্ছে।”

আমি আসলে বলতে চাইছিলাম এ বি পি আনন্দটা চালিয়ে দাও, কিন্তু মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেল তাপস পাল। তার পর থেকে বন্ধুদের মধ্যে ওই কথাটাই চালু হয়ে গেছে।

বেশ কিছুদিন পরে একদিন শুনি প্রসূণ দেবাশীষ কে বলছে “এই দ্যাখো তো আমার বাড়িতে তাপস পাল আসছেনা কেন?” তার উত্তরে দেবাশীষ বললো, “আমি কি করে জানবো কেন আসছেনা? আমার বাড়িতে তো তাপস পাল রোজ আসে।”

কোন বাইরের লোক এই সব সাংকেতিক কথাবার্ত্তা শুনলে কি ভাববে কে জানে?

Shuzaa zaike ডাইন দিক মে

বাঙালীদের হিন্দী তে কথা বলা নিয়ে অনেক মজার গল্প আছে। 

১৯৭০ এর দশকে হেমন্ত বসু নামে  একজন  ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতাকে  মাঝে মাঝে  বড়বাজারের দিকে অবাঙালী শ্রোতাদের  তাঁর বক্তৃতায় অবলীলাক্রমে  কেন্দ্রের  বিরুদ্ধে  হিন্দীতে “কেন্দ্র  নিত্যনৈমিত্তিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করকে প্রাণ ওষ্ঠাগত কর্‌ দেতা হ্যায়” বলে বিষোদ্গার করতেন।  

শুনেছিলাম একবার পঙ্কজ মল্লিক নিজের সুর দেওয়া রবীন্দ্রনাথের একটি গান রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে তাঁকে শুনিয়েছিলেন। সাথে ছিলেন কুন্দনলাল সায়গল। গান শেষ হবার পরে দুজনে যখন ফিরছেন তখন কুন্দনলাল পঙ্কজদা কে বললেন “কেয়া বড়িয়া গানা সুনায়া আপ নে উনকো মল্লিকসাহাব,  দিল ভর গিয়া!”

এদিকে পঙ্কজবাবুর তো রবীন্দ্রনাথের সামনে গাইতে হবে ভেবে সকাল থেকে বুক দুরদুর করছে ভয়ে। গান গাওয়া হয়ে গেছে, তাই এখন তিনি কিছুটা নিশ্চিন্ত।

তিনি বন্ধু কুন্দনলাল কে তাঁর ভাঙা ভাঙা হিন্দী তে নাকি বলেছিলেন, “কেয়া বোলতে হো? সুন্দর গায়া? হামারা তো প্রথম সেহী হৃদকম্প হো রহা থা, গাইতে যে পারা হ্যায়, ইয়ে হী যথেষ্ট হ্যায়!”

কুয়েতে বহুদিন আগে এক ভদ্রলোক ছিলেন, তিনি কুয়েত অয়েল কোম্পানীতে উচ্চপদে আসীন ছিলেন, তাঁর হিন্দীও ছিল অসাধারণ! শোনা যায় তিনি নাকি একবার তাঁর একজন colleague কে বলেছিলেন, “আজ মিটিং মে ইতনা হট্টগোল হুয়া কি হাম তো বেগতিক দেখকে সুযোগ বুঝকে উঁহা সে চম্পট দিয়া!”

কুয়েতে অনেক বাংলাদেশী আছে, তাদের সাথে দেখা হলে আমরা বাংলায় কথা বললেও তারা আমাদের ভারতীয় ভেবে হিন্দীতে উত্তর দেবেই।

এই নিয়ে দুটো গল্প।

আশির দশকে সিদ্ধার্থ আর সুমিতা একবার ফাহাহীলে একটা ভিডিওর দোকানে গেছে, সেখানে একটি বাংলাদেশী ছেলে তাদের নানারকম ভিডিও দেখাচ্ছে। সে ধরেই নিয়েছে যে ভাবী শাড়ী পরে আছেন, তিনি হলেন বাঙালী, আর দাদা কোট প্যান্ট অতএব তিনি নিশ্চয় ভারতীয়। কোন ভিডিওতে কি সিনেমা তা বোঝাতে সে প্রথমে সুমিতাকে বাংলায় বোঝায় আর পরে দাদা বুঝতে পারেননি এই ভেবে সিদ্ধার্থকে হিন্দীতে অনুবাদ করে জানায়।    

হামলোগ নামে একটা ভিডিও এসেছে বাজারে, ছেলেটি সুমিতাকে বললো “এই ভিডিও টা লয়ে zaan ভাবী, ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা লয়া সুন্দর বানাইসে।”

তারপর সিদ্ধার্থ  হয়তো তার কথা বুঝতে পারেনি এই ভেবে তার দিকে তাকিয়ে হিন্দীতে, “ছাত্র ছাত্রী লোগোকা  সমস্যা লয়া বহুত সুন্দর বানায়া হ্যায়!”

এক বন্ধুর ছেলের পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ছিল বলে শ্যামল আর নুপূর তাকে  একদিন Al Razi হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিল, সেখানে অনেক বাংলাদেশী ward boy,  তাদের একজন কে নুপূর জিজ্ঞেস করে, “Children’s ward টা কোথায় ভাই?”  

তার উত্তরে সেই ছেলেটি যে অবিস্মরণীয় Classic উত্তর দিয়েছিল তা হলোঃ

Shuza zaike ডাইন দিক মে!

নুইসেন্স

আমার বন্ধু সিদ্ধার্থর ছোটবেলা কেটেছে আসামের ডিগবয় শহরে। সে যখন খুব ছোট, ক্লাস ফোর কিংবা ফাইভে পড়ে, তার স্কুলের ইংরেজীর মাস্টারমশায়  ঠিক করলেন যে ছেলেদের ইংরেজীটা  ভালভাবে শিখতে গেলে তাদের ইংরেজীতে কথা বলাটা খুব দরকার।

তিনি নিয়ম করে দিলেন যে এবার থেকে সবাইকে ইংরেজীতে কথা বলতে হবে, অসমীয়া, বাংলা কিংবা হিন্দী তে কথা বলা চলবেনা।

সিদ্ধার্থ আর তার বন্ধুদের তো প্রথম প্রথম খুব অসুবিধে হতে লাগলো। ইংরেজীতে কথা বলার অভ্যেস না থাকলে যা হয় আর কি,  সোজা সোজা কথাও মনে মনে বাংলা থেকে ইংরেজীতে translate করে বলতে হচ্ছে, এবং তাও প্রচুর ভুলভাল হচ্ছে।

মাস্টারমশায় বললেন চোখ কান খোলা রাখো, চারিপাশে ইংরেজী তে কেউ কিছু বললে বোঝার চেষ্টা করো, কোথাও ইংরেজীতে কিছু লেখা থাকলে সেটা পড়ে তার মানে জেনে নাও।

ডিগবয় খুব সুন্দর শহর, সেখানে  অনেক বাগান, পরিস্কার রাস্তাঘাট,  নানা জায়গায় ইংরেজীতে লেখা  “Keep your city beautiful”, “ Do not walk on grass”, “Do not touch the flowers”, “Do not commit nuisance”,  ইত্যাদি।

সিদ্ধার্থর সহপাঠী বন্ধু সুকান্ত একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলো  “Do not commit nuisance মানে কি রে?”

সিদ্ধার্থও কথাটার মানে ঠিক জানেনা।

বড়দের কাউকে জিজ্ঞেস করে ওরা জানলো যে কথাটার মানে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া। অর্থাৎ হিসি করা।

এর কিছুদিন পরে ওদের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে, সিদ্ধার্থরা সবাই একমনে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে যাচ্ছে, সারা হলঘর শান্ত, নীরব, নিশ্চুপ, কোন আওয়াজ নেই।

এমন সময় সুকান্ত হঠাৎ হাত তুললো। সে কিছু বলবে।

Invigilator ছিলেন ওদের ইংরেজীর মাস্টারমশায় । তিনি সুকান্ত কে ইংরেজীতে বললেন, “What do you want?”

সুকান্ত কে ইংরেজীতেই উত্তর দিতে হবে।

সে বললো, “I want to commit nuisance sir!”

ডিস্ম্যান্টেলেবল্‌

কুয়েতে প্রথম দিকে একদিন সিদ্ধার্থ আর নীহার (সেন) দা’ গেছেন ফার্নিচার কিনতে। দুজনেই কুয়েতে নতুন, তাই দুজনেরি নতুন বাড়ীতে খাট চেয়ার টেবিল এই সব দরকার।

হাওয়ালীর বেইরুট স্ট্রীট আর টিউনিস স্ট্রীট অঞ্চলে সারি সারি ফার্ণিচারের দোকান। সেখানে দোকানদাররা সবাই আরব, তাদের মধ্যে প্যালেস্টিনিয়ানই বেশী।

আলমারী টেবিল সোফা সব বেশ ভারী, এই সব বাড়ী নিয়ে যেতে গেলে একটা বড় ভ্যান ভাড়া করতে হবে, গাড়ীতে করে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। এগুলো খুলে নিয়ে বাড়ীতে assemble করা যায়না?

নীহার দা’ দোকানদার কে ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করলেন Are these dismantalable?

Dismantalable?

নীহারদার এই শক্ত ইংরেজী শুনে প্যালিস্টিনিয়ান দোকানদারের তো প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাবার মতো অবস্থা। তার চোখ গোল গোল হয়ে গেল, কিছুক্ষণ সে কোন কথাই বলতে পারেনি।

আমাদের বাংলায় অবিশ্বাস বিপন্নতা বা বিস্ময় বোঝাবার জন্যে যেমন অনেক expression আছে যেমন যাঃ সে কি, তার মানে? কি যে বলেন, না না হতেই পারেনা, ইত্যাদি, আরবদের ওই একটাই কথা ওয়াল্লা – যা কিনা তারা universally ব্যবহার করে।   

কয়েক মূহুর্ত পরে সংবিত ফিরে পেয়ে দোকানদারটি বললো, “ওয়াল্লা, হোয়াত ইস দ্যাত্‌?”

নীহার দা’ বুঝলেন ইংরেজীটা একটু বেশী কঠিন হয়ে গেছে, একটু সোজা করে বোঝানোর জন্যে তিনি বললেন, “Can we break them and take them home?”

ব্রেক কথাটা শুনে লোকটি হাঁ হাঁ করে উঠে কিছুটা যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখ করে বলেছিল, “ওয়াল্লা, নো নো, নো ব্রেক, দিস ভেরী স্ত্রং…”

পিয়া মিলন কো যানা

কবি বলেছেন একাকী গায়কের নহেকো গান, গাহিতে হবে দুই জনে। গায়কের সাথে শ্রোতার যে একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে, এ কথা অস্বীকার করা যায়না।

রাজসভায় সবাই কাশীনাথের গান শুনে ধন্য ধন্য করছে কিন্তু বুড়ো রাজার সেই গান শুনে মন ভরেনা, তিনি তাঁর প্রিয় বন্ধু  বরজলালের গান শুনতে চান। এদিকে বরজলালের বয়স হয়েছে, তার গলা কেঁপে যাচ্ছে, সুরও ঠিক ধরছেনা, সভাসদ দের তার গান একেবারেই পছন্দ নয়। কিন্তু রাজা কেবল বরজলালের গানই শুনবেন।

একেই বোধ হয় বলে জেনারেশন গ্যাপ!

আমার শ্বশুর মশায় সুভদ্রা কে বলতেন কি এমন গান গায় তোমাদের লতা মঙ্গেশকার, মা? সে গাইতো আমাদের কাননবালা…

এদিকে সুভদ্রা কিছুতেই তার বাবার কথা মানবেনা। সে বেশ কয়েকবার কাননবালা দেবীর গান শুনেছে, তার মোটেই ভাল লাগেনি। কোথায় লতা মঙ্গেশকার আর কোথায় কাননবালা!

এই নিয়ে সুভদ্রার সাথে তার বাবার তর্ক লেগেই থাকতো।

১৯৮০ র দশকে আসামে “বাঙ্গাল খেদা” আন্দোলনের ফলে  দুলিয়াজান এর Assam Oil Company থেকে   আসাম থেকে অনেক বাঙালী  Geologist, Drilling Engineer, আর Petroleum Engineer কুয়েতে কাজ নিয়ে চলে আসেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন Senior ম্যানেজার ও ছিলেন। আমার বন্ধু সিদ্ধার্থ, তখন যুবক, সেও দুলিয়াজান থেকে কাজ নিয়ে ওই সিনিয়রদের সাথে কুয়েতে আসে। এই সব সিনিয়র দের কেউ তার চন্দদা’, কেউ ওয়াদ্দেদার দা’, কেউ সেনদা’, কেউ চ্যাটার্জ্জী দা’।

এদের মধ্যে চ্যাটার্জী (তপোব্রত) দা’ ছিলেন একজন সঙ্গীতরসিক মানুষ, নিজে ভাল গান গাইতেন, আর গান শুনতে ভালবাসতেন। আর তাঁর প্রিয় গায়ক ছিলেন পঙ্কজ মল্লিক।  

Kuwait Oil Company তে দুপুরে এক ঘন্টার লাঞ্চ ব্রেক। সিদ্ধার্থ রোজ চ্যাটার্জীদা’র গাড়ীতে বাড়িতে লাঞ্চ খেতে যায়। আর সারাটা পথ চ্যাটার্জ্জীদা’র গাড়িতে ক্যাসেটে পঙ্কজ মল্লিকের গান বাজে। এদিকে সিদ্ধার্থর প্রিয় গায়ক হলেন কিশোর কুমার। রোজ রোজ গাড়িতে যেতে যেতে পঙ্কজ মল্লিকের নাকি গলায় গান শুনতে তার একেবারেই ভাল লাগেনা। আর বার বার চ্যাটার্জ্জী দা’ তাঁর একটা বিশেষ প্রিয় গান বাজাবেন ই।

পিঁয়া মিঁলন কোঁ যাঁনা/

আঁ আঁ আঁ আঁ/

পিঁয়া মিঁলন কোঁ যাঁনা/

ওই এক গান বার বার শোনা সিদ্ধার্থর কাছে এক বিরাট যন্ত্রণা।

তো রোজ রোজ ওই একই গান শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে সিদ্ধার্থ এক দিন চ্যাটার্জ্জী দা’ কে বলল চ্যাটার্জ্জী দা’, রোজ রোজ আপনার গাড়িতে আমি লাঞ্চ খেতে যাচ্ছি, আজ বরং আপনি আমার গাড়িতে চলুন।

চ্যাটার্জ্জী দা’ স্মিত হেসে বললেন “বেশ, চলো”!

সিদ্ধার্থর গাড়িতে উঠে বসে সীট বেল্ট বেঁধে হঠাৎ চ্যাটার্জ্জীদা’র কি যেন মনে পড়ে গেল। তিনি বললেন একটূ দাঁড়াও তো সিদ্ধার্থ, একটা জিনিষ নিয়ে আসি।

কি জিনিষ?

একটু পরে চ্যাটার্জীদা’ ফিরে এসে সিদ্ধার্থ কে একটা ক্যাসেট দিয়ে বললেন নাও, এটা চালিয়ে দাও, রাস্তায় যেতে যেতে একটু গান শোনা যাক ~

সব্বোনাশ!

আবার সারা রাস্তা ধরে সেই পিঁয়া মিঁলন কোঁ যাঁনা…

সিদ্ধার্থ সেদিন তার বৌ সুমিতাকে বললো কাল থেকে আমায় লাঞ্চ দিয়ে দিও, আমি অফিসেই খেয়ে নেবো।

বুঝতে পেরেছেন তো আমি কি বলছি

ভালকাকা কোন কথার মধ্যে প্রায়ই বলতেন “বুঝলি তো” তাই কাউকে “বুঝলি তো” বলতে শুনলেই অবধারিত ভালকাকার কথা মনে পড়ে।

তারাপদ দা’ বলতেন “বুঝতে পেরেছো তুমি?” ওটা তাঁর একটা মুদ্রাদোষ ছিল। ওনার পন্ডিতিয়া রোডের বাড়ীতে প্রায়ই আমি আর সুভদ্রা গিয়ে আড্ডা মেরে আসতাম। নানা গল্প হত। আর তারাপদ দা’র সব গল্পেই বার বার ওই কথাটা ফিরে আসবেই।

আমার এক কুয়েতের বন্ধু ধ্রুব আবার বলেন “বুঝতে পেরেছেন তো আমি কি বলছি?”

কিছু দিন আগে আমাদের কাম্বোডিয়া আর ভিয়েতনাম বেড়ানো নিয়ে আলোচনা করতে ধ্রুব আর আমি হাজরা রোড এ Altair Travel এর অফিসে গিয়েছি। Altair Travel এর মালিক উপানীতা সেন কে ধ্রুব  চেনেন ভাল করে। ধ্রুব্র যাবতীয় travel এর বন্দোবস্ত উপানীতাই করেন।

গাড়ীতে আসতে আসতে ট্রিপ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে, ধ্রুব হঠাৎ আমায় জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা ইন্দ্রজিৎ আপনি কি জানেন এই সব দেশে হোটেলে বাথরুমে commode shower থাকে কি না?”

Commode  আর shower? আমি বললাম, “থাকবেনা কেন? সব হোটেলেই আজকাল কমোড আর স্নান করার শাওয়ার থাকে।”

ধ্রুব একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, “আরে না না, Commode  আর shower নয়, আমি বলছি Bidet Shower এর কথা।  আপনি বুঝতে পেরেছেন তো আমি কি বলছি?

ও হরি, বুঝলাম, কোন শাওয়ারের কথা ধ্রুব বলছেন। মানে বাঁ হাতের কাজের জন্যে।

ঠিক হলো উপানীতা কে জিজ্ঞেস করা হবে।

হাজরা রোডে মহারাষ্ট্র নিবাসের উল্টোদিকে একটা বাড়ীর দোতলায় একটা ফ্ল্যাটে Altair Travel এর অফিস। উপা্নিতা একটা ঘরে বসে আছেন। বাইরে হলে বেশ কিছু মেয়ে তাদের টেবিলে PC র স্ক্রিনে চোখ রেখে একমনে কাজ করে যাচ্ছে।

আমাদের দেখে উপানীতা আসুন আসুন বলে তাঁর ঘরে ডেকে নিলেন।  

সব কথা যখন প্রায় শেষ, তখন ধ্রুব তাঁর favourite  bidet shower এর কথাটা তুললেন।

“আচ্ছা এইসব দেশের হোটেলে কি  বাথরুমে bidet shower পাওয়া যাবে?”

তার পরে আমি যেরকম প্রথমে বুঝতে পারিনি সেরকম উপানীতা ও বুঝতে পেরেছেন কিনা তা সম্বন্ধে সন্দেহ থাকায় ধ্রুব তাঁকে বললেন, “বুঝতে পেরেছেন তো আমি কি বলছি?”

উপানীতা কিছুক্ষণ ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে থেকে খুব নির্ব্বিকার গলায় বললেন, “You mean bum shower?”

Bum shower?

আমি আর ধ্রুব  ভদ্রমহিলার কাছ থেকে bum কথাটা শুনে বেশ ব্যোমকেই গেলাম।

ধ্রুব একটু আমতা আমতা করে বললেন হ্যাঁ হ্যাঁ…

যেন কিছুই নয় এইরকম একটা ভাব করে উপানীতা ফোন টা তুলে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলতে লাগলেন, তাঁর কথার মধ্যে বার বার  Bum shower শুনে বুঝলাম উনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন ওই জিনিষ টা আছে কিনা কাম্বোডিয়ার কোন হোটেলে।

Bum, bum bum…

ভদ্রমহিলা  Bum নিয়ে ফোনে তাঁর প্রশ্নবাণ চালিয়ে যাচ্ছেন, আমি আর ধ্রুব কিছুটা লজ্জায় মাথা নীচু করে চুপ করে বসে আছি।

কি করবো আমরা দু’জনেই তো পুরুষ মানুষ, আমাদের তো যাকে বলে one track mind…bum কথাটা শুনলেই আমাদের মনে অদ্ভুত অদ্ভুত যত সব অসভ্য ছবি ফুটে ওঠে।  

উপানীতা র কাছে অবশ্য এসব কোন ব্যাপার নয়। ফোন শেষ হয়ে গেলে তিনি বেশ matter of fact গলায় আমাদের বললেন, “না, ওদেশের কোন হোটেলে কোন bum shower নেই।”

বেরিয়ে এসে গাড়ীতে উঠে আমি ধ্রুবকে বললাম No problem, আমরা একটা করে ঘটি নিয়ে  যাবো সাথে করে।

সিলিং মেথড

কোন Whatsapp গ্রুপে থাকলে একটা problem হলো যে সেখানে রোজই হাজার হাজার ভিডিও ছবি আর জোক আসে। সেগুলো নিয়ম করে delete করাই একটা বড় কাজ।

সেদিন একটা হিন্দী জোক পেলাম পাসওয়ার্ড  নিয়ে। তোমরাও সবাই পেয়েছো নিশ্চয়। সান্টার লম্বা পাসওয়ার্ড ~  রাম সীতা লক্ষ্মণ হনুমান দিল্লী কেজরীওয়াল। বান্টা জিজ্ঞেস করলো তোর এত লম্বা পাসওয়ার্ড কেন রে? সান্টা বললো কি করবো ভাই, পাঁচটা character, আর একটা capital দরকার যে। বান্টা বললো সে তো বুঝলাম, কিন্তু কেজরীওয়াল কেন? সান্টার উত্তর – “এক special character ভি চাহিয়ে থী ইয়ার~”

পাসওয়ার্ড ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই হাসি আর মজার নয়। আমাদের সর্ব্বস্ব (Identity) চুরি করে নেবার জন্যে অদৃশ্য চোরেরা আশেপাশে ঘুরঘুর করছে, একটু অন্যমনস্ক হয়েছো কিংবা গাফিলতি করেছো কি মরেছো।

এখন আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। ব্যাঙ্কের এ টি এম আর  ক্রেডিট কার্ড তো আছেই, তাছাড়া  মোবাইল ফোন, ই মেল account, ওয়েবসাইট access,  ইত্যাদি কত যে secret নম্বর!

কুয়েতে Oil Sector এ  যেমন KOC বা KNPC তে যাদের email account আছে তারা জানো যে সেখানে পাসওয়ার্ড নিয়ে বিরাট কড়াকড়ি। পনেরো দিন অন্তর  অন্তর পাসওয়ার্ড পাল্টাতে হবে, সেই পাসওয়ার্ড আবার অন্ততঃ দশ অক্ষর হওয়া চাই, পুরোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা চলবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারটা নিয়ম।

আমার কিছুদিন KOC তে একটা mail account  ছিল, আমি তো তার পাসওয়ার্ড বানাতে বানাতে জেরবার হয়ে গেলাম। প্রতি পনেরো দিন অন্তর নতুন পাসওয়ার্ড বানানো সোজা কথা নাকি?

হিমসিম অবস্থা!

প্রথমে তো আমার নাম, মা বাবার নাম, বৌ আর মেয়েদের নাম, নাতনীদের নাম দিয়ে কিছুদিন চললো। তারপর নাতনীদের আদর করে যে সব নামে ডাকি যেমন বুজু বুজু গুজু কিংবা পুসু কুসু মুসু এইসব।

সে লিস্ট ফুরিয়ে যাবার পরে মহাপুরুষদের নাম ধরলাম। রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকনন্দ, নেতাজী সুভাষ সবাই কোন না কোন সময়ে আমার পাসওয়ার্ড হয়েছেন। তার পরে ধরলাম সাহিত্যিকদের। বিভূতিভুষণ, তারাশঙ্কর, শৈলজারঞ্জন এঁরাও সব বেশ ভাল পাসওয়ার্ড। সেই লিস্ট শেষ হলে তারপর এলেন গায়করা।   হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, যত বেশী কঠিন নাম, তত তাঁরা পাসওয়ার্ড হিসেবে সরেস, কেননা তাঁরা পাসওয়ার্ড চোরদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

শেষ পর্য্যন্ত যখন আর কোন যুৎসই নাম মনে পড়ছেনা তখন হতাশ হয়ে ধরলাম গানের কথা। বললে বিশ্বাস করবেনা, KOC তে আমার শেষ পাসওয়ার্ড ছিল ধিতাং ধিতাং।

Password generation এর একটা ভাল এবং খুব সহজ আর কাজের উপায় হলো Ceiling method, এই জগদবিখ্যাত proven and trusted data collection method সম্পর্কে তোমরা কিছু জানো নাকি?

ব্যাপারটা আসলে কিছুই নয়। তোমায় যদি কোন data collect করার কাজ দেওয়া হয়, তুমি সেটা ঘরে বসেই করতে পারো। Simply বিছানায় শুয়ে ছাদের কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে থাকো, দেখবে আপনা থেকেই  সিলিং থেকে Data টপটপ করে তোমার কোলে এসে পড়ছে।

এই পাসওয়ার্ড এর কথাই ধরা যাক।

মনে করো বি সি এসের সরস্বতী পূজোর অঞ্জলি দিয়ে বাড়ী ফিরেছো। সারা জীবন সরস্বতী পুজোর অনেক অঞ্জলি দিয়েছ, সব মন্ত্র তোমার মুখস্থ। কিন্তু আজ বি সি এসের পুরুত মশাই অং বং চং করে কি যে সব মন্ত্র পড়লেন, তুমি জীবনেও আগে শোনোনি। তোমার মাথাটা ঝিম ঝিম করছে, তুমি ব্যোম হয়ে বাড়িতে ফিরে এসে বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছো।

হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মতো দুটো কথা তোমার মাথায় এল।

যস্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষং!

ব্যাস, না চাইতেই টপটপ করে দুখানা পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলে। আর কি অপূর্ব্ব পাসওয়ার্ড! আমি দেখেছি অনুস্বর যোগ করলে কথা গুলো বেশ সংস্কৃত ভাষার মত শোনায়।

পাসওয়ার্ড চোরেরা কি সংস্কৃত জানে নাকি?

Most probably না।

ধরা যাক আর একবার ছাদের দিকে তাকিয়ে তোমার মাথায় এলো আরো দুটি কথা।

গোদাবরী তীরে শাল্মলী তরু!

এবার দরকার মতো অনুস্বর যোগ করে দাও।

দাঁড়ালো ~ গোদাবরীং তীরেং শাল্মলীং তরুং!

বাঃ, আরো দুটো চমৎকার পাসওয়ার্ড। বেশ মজা না? অনেকটা যেন মেঘ না চাইতেই জল!

আর যদি মনে করো, একটা Outside chance,  যে এখানকার পাসওয়ার্ড চোরেরা সংস্কৃত জানে, এমন কি কালিদাসও পড়েছে, তাহলে তাদের একটু ব্যোমকে দেবার জন্যে একটু ঘুরিয়ে ওটা করে দাও ~

শাল্মলীং তীরেং গোদাবরীং তরুং!

আর এর মধ্যে ভগবানের আশীর্ব্বাদ পাবার জন্যে গোটাকয়েক ওঁ ও দিয়ে দিতে পারো। তাহলে পাসওয়ার্ড টা আরো জম্পেশ হবে।

তাহলে দাঁড়ালো~

ওঁ শাল্মলীং তীরেং গোদাবরী তরুং ওঁ!

চোরেদের চৌদ্দপুরুষ এলেও এ জিনিষ খুঁজে পাবেনা।

কি সোজা না?

ওঁ নীলাচলেং মহাপ্রভুং জলবত্তরলং ওঁ!

মেজমাসী

আমার বন্ধু সিদ্ধার্থর মেজমাসীর একটা অদ্ভুত প্রবণতা ছিল, luck ও বলা যায়, তাঁর সাথে celebrity  দের পথে ঘাটে দেখা হয়ে যেত। এবং তাদের সাথে দেখা হলেই চেনা নেই শোনা নেই তবু মেজমাসী খুব smartly  তাদের সাথে গিয়ে আলাপ জুড়ে দিতে পারতেন। এবং আলাপ করে বাড়ি এসেই তিনি তাঁর বোনদের সবাই কে ফোন করে বলতেন কার সাথে দেখা হল, তিনি কাকে কি বললেন, তারা কি বললো ইত্যাদি।

একবার নিউ মার্কেটে মাধবী মুখার্জ্জীর সাথে মেজমাসীর দেখা। মেজমাসী বললেন এ কী মাধবী, তোমার মুখটা এত শুকনো লাগছে কেন? শরীর খারাপ নাকি? মাধবী একটু সংকোচের সাথে বললেন আমি তো মাসীমা আপনাকে ঠিক…

মেজমাসী বললেন আমায় চিনতে পারছোনা তো? কি করে চিনবে? তুমি তো আমায় কোনদিন দ্যাখোইনি।

এই নিয়ে মাসীমা মানে সিদ্ধার্থর মা’র একটা inferiority complex ছিল, কেননা তাঁর সাথে কোনদিন কোন  celebrity র দেখা হয়না।

তো একবার মাসীমা ছেলের কাছে কুয়েতে বেড়াতে এসেছেন। মাস তিনেক থাকার পরে সিদ্ধার্থ তাঁকে নিয়ে কলকাতা যাচ্ছে। দুবাই তে Stop over, সেখানে সিদ্ধার্থ দ্যাখে মৃণাল সেন লাউঞ্জে একটু দূরে বসে আছেন। মাসীমাও দেখেছেন।

সিদ্ধার্থ মাসীমাকে বলল মা আমি একটু বাথরুমে যাচ্ছি, তুমি কিন্তু একদম ওনার সাথে গিয়ে কথা বলবেনা।

বাথরুম থেকে বেরিয়ে সিদ্ধার্থ দ্যাখে যা ভয় পেয়েছিল তাই, মাসীমা মৃণাল বাবুর পাশে বসে দিব্বি আলাপ করে যাচ্ছেন। সিদ্ধার্থ কাছে আসতে মাসীমা বললেন এই হল আমার ছেলে, কুয়েতে থাকে। মৃণাল বাবু বেশ গপ্পে লোক, তিনি বললেন আমিও কুয়েতে গিয়েছিলাম একবার বেশ কিছুদিন আগে…

দমদম থেকে যাদবপুরে বাড়িতে ঢুকেই মাসীমার ফোন মেজমাসীকে।

মেজদি, জানিস আজ কার সাথে দেখা হলো?

ঋত্বিক ঘটক!

রজনীগন্ধা

টিঙ্কু আর দেবাশীষ কলকাতায় ফিরে আসার পর, তাদের ড্রাইভার সুভাষ ওদের প্রায় বাড়ীর লোক হয়ে গেছে।    গাড়ী চালানো ছাড়া সে ওদের বাজার দোকান ইত্যাদি অনেক কাজ হাসিমুখে করে দেয়। সে একাধারে বিশ্বাসী আর করিতকর্ম্মা ছেলে।      

তো একদিন টিঙ্কু সুভাষ কে বললো, “আমার জন্যে বারোটা বারোটা করে দুই গোছা চব্বিশটা রজনীগন্ধা নিয়ে আসিস তো। কাটতে হবেনা, আমি কেটে নেবো।”

কিছুক্ষণ পরে সুভাষ রজনীগন্ধা নিয়ে এসে হাজির। টিঙ্কু বলল, “নিয়ে এসেছিস, ঠিক আছে ফ্রিজে রেখে দে।”

বিকেলে টিঙ্কু ফ্রিজ খুলে কোথাও ফুল না দেখে সুভাষ কে বললো, “কি রে রজনীগন্ধা কোথায় রাখলি? ফ্রিজে তো দেখছিনা?”

“কেন, ওখানেই তো আছে”, বলে সুভাষ দুই তাড়া রজনীগন্ধা পান মসালার প্যাকেট নিয়ে এসে টিঙ্কু কে দিলো!

টিঙ্কুর তো তাই দেখে চক্ষু চড়কগাছ!

টিঙ্কুর বকুনী খেয়ে সুভাষ বলেছিল, “তাই দোকানের লোকটা বলছিল এগুলো তো এক প্যাকেটে দশটা করে থাকে, বারোটা তো হবেনা, দুটো আলাদা নিয়ে যান!”

সত্যি পান মসালার নাম রজনীগন্ধা হলে সুভাষ কি করবে?

কিন্তু টিঙ্কুরই বা কি দোষ?

পুলি পিঠে

কুয়েতে সুভদ্রা ALICO তে লাইফ ইন্সুরেন্স বিক্রী করতো  আর তার খদ্দেরদের কাছে যাবার জন্যে সে তার সাধের বিশাল Mitsubishi Pajero (SUV) গাড়ী চড়ে সারা কুয়েত শহর চষে বেড়াতো।

তার গাড়ীর গ্যারেজ ছিলো  Sharq এ  Fisheries বিল্ডিং এর উল্টোদিকে। গাড়ীতে কোন গন্ডগোল হলে সে নিজেই সেখানে গাড়ী নিয়ে চলে যেতো। সেই গ্যারেজের মেকানিকরা সবাই ভারতীয়। তাদের যে লীডার তার নাম মওলা, সে অন্ধ্রের লোক। ভাঙা ভাঙা হিন্দী তে কথা বলে।

তো একবার সুভদ্রার গাড়ীর ফ্যান বেল্ট ছিঁড়ে খুলে গেছে। আমি সুভদ্রা কে বললাম পুলি থেকে বেল্টটা খুলে গেছে, মওলা কে বললেই ও বুঝে যাবে।

সুভদ্রা ফ্যান বেল্ট কথাটা ভুলে গেছে, তার শুধু মনে আছে পুলি।

সে গ্যারেজে গিয়ে মওলা কে বললো “দেখো তো পিঠে মে কুছ হুয়া…”

পিঠে?

মওলা তো অবাক!  

“পিঠে কেয়া হ্যায় ম্যাডাম?”

তারপর গাড়ীর বনেট খুলে অবশ্য মওলা বুঝে যায় প্রবলেমটা কি।

গল্পটা শুনে সিদ্ধার্থ বললো তুমি ওকে বললেনা কেন “পাটিসাপটা কো জরা দেখনা, উসমে কুছ গড়বড় হুয়া হোগা…”