১
কোন Whatsapp গ্রুপে থাকলে একটা problem হলো যে সেখানে রোজই হাজার হাজার ভিডিও ছবি আর জোক আসে। সেগুলো নিয়ম করে delete করাই একটা বড় কাজ।
সেদিন একটা হিন্দী জোক পেলাম পাসওয়ার্ড নিয়ে। তোমরাও সবাই পেয়েছো নিশ্চয়। সান্টার লম্বা পাসওয়ার্ড ~ রাম সীতা লক্ষ্মণ হনুমান দিল্লী কেজরীওয়াল। বান্টা জিজ্ঞেস করলো তোর এত লম্বা পাসওয়ার্ড কেন রে? সান্টা বললো কি করবো ভাই, পাঁচটা character, আর একটা capital দরকার যে। বান্টা বললো সে তো বুঝলাম, কিন্তু কেজরীওয়াল কেন? সান্টার উত্তর – “এক special character ভি চাহিয়ে থী ইয়ার~”
পাসওয়ার্ড ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই হাসি আর মজার নয়। আমাদের সর্ব্বস্ব (Identity) চুরি করে নেবার জন্যে অদৃশ্য চোরেরা আশেপাশে ঘুরঘুর করছে, একটু অন্যমনস্ক হয়েছো কিংবা গাফিলতি করেছো কি মরেছো।
এখন আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। ব্যাঙ্কের এ টি এম আর ক্রেডিট কার্ড তো আছেই, তাছাড়া মোবাইল ফোন, ই মেল account, ওয়েবসাইট access, ইত্যাদি কত যে secret নম্বর!
কুয়েতে Oil Sector এ যেমন KOC বা KNPC তে যাদের email account আছে তারা জানো যে সেখানে পাসওয়ার্ড নিয়ে বিরাট কড়াকড়ি। পনেরো দিন অন্তর অন্তর পাসওয়ার্ড পাল্টাতে হবে, সেই পাসওয়ার্ড আবার অন্ততঃ দশ অক্ষর হওয়া চাই, পুরোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা চলবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারটা নিয়ম।
আমার কিছুদিন KOC তে একটা mail account ছিল, আমি তো তার পাসওয়ার্ড বানাতে বানাতে জেরবার হয়ে গেলাম। প্রতি পনেরো দিন অন্তর নতুন পাসওয়ার্ড বানানো সোজা কথা নাকি?
হিমসিম অবস্থা!
প্রথমে তো আমার নাম, মা বাবার নাম, বৌ আর মেয়েদের নাম, নাতনীদের নাম দিয়ে কিছুদিন চললো। তারপর নাতনীদের আদর করে যে সব নামে ডাকি যেমন বুজু বুজু গুজু কিংবা পুসু কুসু মুসু এইসব।
সে লিস্ট ফুরিয়ে যাবার পরে মহাপুরুষদের নাম ধরলাম। রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকনন্দ, নেতাজী সুভাষ সবাই কোন না কোন সময়ে আমার পাসওয়ার্ড হয়েছেন। তার পরে ধরলাম সাহিত্যিকদের। বিভূতিভুষণ, তারাশঙ্কর, শৈলজারঞ্জন এঁরাও সব বেশ ভাল পাসওয়ার্ড। সেই লিস্ট শেষ হলে তারপর এলেন গায়করা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, যত বেশী কঠিন নাম, তত তাঁরা পাসওয়ার্ড হিসেবে সরেস, কেননা তাঁরা পাসওয়ার্ড চোরদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
শেষ পর্য্যন্ত যখন আর কোন যুৎসই নাম মনে পড়ছেনা তখন হতাশ হয়ে ধরলাম গানের কথা। বললে বিশ্বাস করবেনা, KOC তে আমার শেষ পাসওয়ার্ড ছিল ধিতাং ধিতাং।
২
Password generation এর একটা ভাল এবং খুব সহজ আর কাজের উপায় হলো Ceiling method, এই জগদবিখ্যাত proven and trusted data collection method সম্পর্কে তোমরা কিছু জানো নাকি?
ব্যাপারটা আসলে কিছুই নয়। তোমায় যদি কোন data collect করার কাজ দেওয়া হয়, তুমি সেটা ঘরে বসেই করতে পারো। Simply বিছানায় শুয়ে ছাদের কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে থাকো, দেখবে আপনা থেকেই সিলিং থেকে Data টপটপ করে তোমার কোলে এসে পড়ছে।
এই পাসওয়ার্ড এর কথাই ধরা যাক।
মনে করো বি সি এসের সরস্বতী পূজোর অঞ্জলি দিয়ে বাড়ী ফিরেছো। সারা জীবন সরস্বতী পুজোর অনেক অঞ্জলি দিয়েছ, সব মন্ত্র তোমার মুখস্থ। কিন্তু আজ বি সি এসের পুরুত মশাই অং বং চং করে কি যে সব মন্ত্র পড়লেন, তুমি জীবনেও আগে শোনোনি। তোমার মাথাটা ঝিম ঝিম করছে, তুমি ব্যোম হয়ে বাড়িতে ফিরে এসে বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছো।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মতো দুটো কথা তোমার মাথায় এল।
যস্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষং!
ব্যাস, না চাইতেই টপটপ করে দুখানা পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলে। আর কি অপূর্ব্ব পাসওয়ার্ড! আমি দেখেছি অনুস্বর যোগ করলে কথা গুলো বেশ সংস্কৃত ভাষার মত শোনায়।
পাসওয়ার্ড চোরেরা কি সংস্কৃত জানে নাকি?
Most probably না।
ধরা যাক আর একবার ছাদের দিকে তাকিয়ে তোমার মাথায় এলো আরো দুটি কথা।
গোদাবরী তীরে শাল্মলী তরু!
এবার দরকার মতো অনুস্বর যোগ করে দাও।
দাঁড়ালো ~ গোদাবরীং তীরেং শাল্মলীং তরুং!
বাঃ, আরো দুটো চমৎকার পাসওয়ার্ড। বেশ মজা না? অনেকটা যেন মেঘ না চাইতেই জল!
আর যদি মনে করো, একটা Outside chance, যে এখানকার পাসওয়ার্ড চোরেরা সংস্কৃত জানে, এমন কি কালিদাসও পড়েছে, তাহলে তাদের একটু ব্যোমকে দেবার জন্যে একটু ঘুরিয়ে ওটা করে দাও ~
শাল্মলীং তীরেং গোদাবরীং তরুং!
আর এর মধ্যে ভগবানের আশীর্ব্বাদ পাবার জন্যে গোটাকয়েক ওঁ ও দিয়ে দিতে পারো। তাহলে পাসওয়ার্ড টা আরো জম্পেশ হবে।
তাহলে দাঁড়ালো~
ওঁ শাল্মলীং তীরেং গোদাবরী তরুং ওঁ!
চোরেদের চৌদ্দপুরুষ এলেও এ জিনিষ খুঁজে পাবেনা।
কি সোজা না?
ওঁ নীলাচলেং মহাপ্রভুং জলবত্তরলং ওঁ!